৩৩ টি ওষুধের দাম কমানো সহ ইডিসিএল এর মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা মহোদয়ের নেতৃত্বে চমকপ্রদ উন্নয়ন।

গত ১৩ই আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এর মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা মহোদয় বিগত ছয় মাসে তাহার নেতৃত্বে কোম্পানির যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা তিনি তুলে ধরেন।

জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা বলেন গত ছয় মাসে আমাদের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো:

১। ৩৩ টি ওষুধের দাম কমানো হয়েছে বাকি ওষুধের দাম কমানোর কাজ চলছে।

২। টোল ম্যানুফ্যাকচারিং অধিকাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে এবং অতি শীঘ্রই কিছু মেশিন সংযোজন এর মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে টোল বন্ধ করা হবে।

৩। ইন্টারভেনাস ফ্লুইড এর প্লান্ট চালু করা হয়েছে, যা অনতিবিলম্বে সরকারকে উৎপাদিত আইভি ফ্লুইড সরবরাহ করা হব।

৪। গুড সোর্স থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প মূল্যে এ পি আই ক্রয় করা হচ্ছে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে।

৫। ৭০০ অতিরিক্ত, অযোগ্য এবং অদক্ষ জনবল কমানো হয়েছে।

৬। লে টাইম কমিয়ে কর্ম ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে ফলে উৎপাদনশীলতা বা প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে। অভার টাইম কমিয়ে আনা হয়েছে এতে কোম্পানির প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

৭। লোকজনকে মোটিভেশন এর মাধ্যমে কর্মমুখী করা হয়েছে, শ্রমিক কর্মচারী এবং ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

৮। প্রোডাক্টের গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

৯। সরকারি সাপ্লাই চেইন উন্নত করা হয়েছে, ফলে বেশি পরিমাণ এসেনশিয়াল প্রোডাক্ট সরকারের কাছে সরবরাহ হচ্ছে।

১০। সরকার আমাদের বলেছেন স্বচ্ছ ক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, আমরা প্রোকিউরমেন্ট এর স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনেছি সকলকে টেন্ডার এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

১১। নতুন দুটো প্লান্ট হচ্ছে, একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন মুখি বায়োটেক প্লান্ট এবং অন্যটি এক্সেস্টিং প্লান্ট, as per S of the Art এবং FDA Guideline অনুযায়ী তৈরি হতে যাচ্ছে।

১২। সিন্ডিকেট ভাঙার কারণে ঔষুধের দাম অনেক কমেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় আইসো প্রপাইল অ্যালকোহলের দাম প্রিভিয়াস প্রাইজ ছিল ১৬১৮ টাকা এখন ১৩ ৯৭ টাকা। Maize starch ৬৫০ প্রতি টন, এখন কিনি ৫১৮ ডলারে। Ceftriaxone antibiotic প্রতি কেজি আগে কেনা হতো ১৩৯ ডলারে এখন কিনি প্রতি কেজি ১২১ ডলারে।

১৩। ট্রেডিশনাল প্রোডাক্ট এর পরিবর্তে বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট যেমন insulin, Erythropoietin এর চাহিদা বেড়েছে আমরা এইসব প্রোডাক্ট উৎপাদনের জন্য রেডি হচ্ছি।

১৪। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি: ইডিসিএল-এর লক্ষ্য হলো সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদার ৭০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% পূরণ করা। নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্ল্যান্টগুলোকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৫। আইভি ফ্লুইড (IV Fluid) প্ল্যান্ট: গোপালগঞ্জে অবস্থিত ইডিসিএল-এর তৃতীয় প্ল্যান্টে ইন্ট্রাভেনাস (IV) ফ্লুইড বা স্যালাইন উৎপাদন পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এই প্ল্যান্টে বছরে ২ কোটি ১৬ লাখ বোতল IV ফ্লুইড উৎপাদন করা যাবে। এর ফলে সরকার কম খরচে IV ফ্লুইড সরবরাহ করতে পারবে এবং ডেঙ্গু বা অন্যান্য রোগের মৌসুমে স্যালাইনের সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। বর্তমানে এর পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলছে এবং খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হবে

১৬। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি: ইডিসিএল-এর লক্ষ্য হলো সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদার ৭০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% পূরণ করা। নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্ল্যান্টগুলোকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৭। ভ্যাকসিন ও বায়োটেক প্ল্যান্ট: ইডিসিএল একটি নতুন বায়োটেক প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এই প্ল্যান্টে প্রচলিত ওষুধের বাইরে ভ্যাকসিন এবং ইনসুলিনসহ অন্যান্য বায়োলজিক্যাল পণ্য উৎপাদন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে।

সংস্কার কার্যক্রমের ফলাফল:

১৮। সাশ্রয়: সিন্ডিকেট ভাঙা, দুর্নীতি দমন এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে সরকারের প্রায় ১১৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

১৯। উৎপাদন বৃদ্ধি: সংস্কার কার্যক্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বেড়েছে এবং কাঁচামাল কেনার খরচ কমেছে প্রায় ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মৃধা আরও বলেনঃ বিগত বছরগুলোতে ছয় মাসে কখনোই এই ধরনের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। এই কোম্পানি বিগত ৬০ বছরের যেকোনো ছয় মাসে কোম্পানি যে পরিমাণ সহযোগিতা সরকারকে করেছে খেয়াল করলে দেখা যাবে তা আমরা এই ছয় মাসে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আপনারা আমাদের সাথে থাকেন আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্তভাবে সরকারকে ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে একটি মানসম্মত ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করব।

এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড ঔষধ সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের অত্যাবশ্যিকীয় ঔষধের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের গাইডলাইন এবং সরকারি চাহিদা অনুযায়ী প্রোডাক্ট লাইন কে সাজাতে চেষ্টা করছি ফলে সত্যিকারে কোর ড্রাগস এসেনশিয়াল ড্রাগ দ্রুত উৎপাদন সক্ষম অর্জন করবে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ। আমাদের নতুন দুটো প্লান্ট হচ্ছে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন মুখি বায়োটেক প্লান্ট এবং অন্য একটি এক্সেস্টিং প্লান্ট as per state of the art, FDA guideline অনুযায়ী তৈরি হতে যাচ্ছে যাহা ঢাকার পাশে সিরাজউদ্দিখানে। এই প্ল্যান দুটি বাংলাদেশকে লোলাইন ফ্লো এবং মিডেল ইন্টার্ন কান্ট্রিতে শুধুমাত্র ওষুধ না ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে, এমনকি বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট উৎপাদন করতেও সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে জানবেন যে ফার্মাসিটিক্যাল এ ট্রেডিশনাল প্রোডাক্ট এর পরিবর্তে বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট যেমন insulin, Erythropoietin এর চাহিদা বেড়েছে আমরা এইসব প্রোডাক্ট উৎপাদনের জন্য রেডি হচ্ছি। তাই ইডিসিএল এ শুধুমাত্র সনাতনী ঔষধ না ভবিষ্যতে সব ধরনের ঔষধ তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙার কারণে আমার ঔষুধের দাম অনেক কমেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় আইসো প্রপাইল অ্যালকোহলের দাম প্রিভিয়াস প্রাইজ ছিল ১৬১৮ টাকা এখন ১৩ ৯৭ টাকা। Maize starch ৬৫০ প্রতি টন, এখন কিনি ৫১৮ ডলারে। Ceftriaxone antibiotic প্রতি কেজি আগে কেনা হতো ১৩৯ ডলারে এখন কিনি প্রতি কেজি ১২১ ডলারে।

SHARE