ড. মুনীরউদ্দিন আহমেদ
শিক্ষাবিদ। জনস্বাস্থ্য ও ওষুধ বিশ্লেষক
চিনে নতুন মারণঘাতী এক ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছে। হাসপাতালে রোগীর ভিড় ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে সংখ্যাতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এই ভাইরাস করোনা ভাইরাসের মতো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ভাইরাসটির নাম-
হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (Human Metapneumovirus)
এই ভাইরাসের উপসর্গ মূলত ফ্লু’য়ের মতো। এই ভারাসে আক্রান্ত হলে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে- কাশি, জ্বর, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস। তীব্র অবস্থায় ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাতে পারে। এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন সময় হলো তিন থেকে ছয় দিন। সংক্রমণের তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে রোগের উপসর্গের স্থায়িত্ব।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশু ও বয়স্করা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা নাজুক, তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে। এই ভাইরাসের সাথে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিয়া এবং এমন কী করোনা ভাইরাস সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করে শরীরে বিপর্যয় সৃষ্টি ছাড়াও মৃত্যু ঘটাতে পারে।
চিনে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতে দুই শিশু এবং বাংলাদেশে পাঁচ জনের মধ্যে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে যদিও তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়ায়। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আপাততঃ আমাদের করণীয় কী? প্রতিকার যেহেতু এখনো আবিষ্কার হয়নি, প্রতিরোধ একমাত্র গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা। আর আল্লাহর ওপর রাখুন অটুট ভরসা।
এক, শিশু, বৃদ্ধ, শ্বাসকষ্ট ও হাপানির রোগীদের ব্যাপারে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করুন ৷
দুই, ঘন ঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন ৷ সাবান দিয়ে ভালো করে বার বার হাত ধোয়া ( অন্তত ২০ সেকেন্ড) আরো উত্তম ও স্বাস্থ্যসম্মত।
তিন, মাক্স না পরে বাইরে বা জনসমাগমে যাবেন না ৷
চার, জনসমাবেশ বা ভিড় এড়িয়ে চলুন ৷
পাঁচ, করোনার সময় যেসব সাবধানতা অবলম্বন করা হয়েছিল, সেসব সাবধানতা অবলম্বন করুন।
ছয়, সংক্রামক রোগ থেকে নিজকে রক্ষা করুন ৷ মনে রাখবেন- ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। তবে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন প্রতিরোধ বা প্রতিকারে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যেতে পারে।
সাত, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা জ্বর বা হাঁপানির মতো সমস্যা দেখা দিলে বাসায় অবস্থান করুন ৷ শিশু ও বয়স্কদের যথাসম্ভব দূরে রাখুন। সম্ভব হলে আলাদা কক্ষে থাকা নিরাপদ।
আট, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলুন। ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট হোন। সংক্রামক রোগে ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি’র ঘাটতি রোধ করুন।
নয়, এই ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দরকার হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো শ্রেয়।
দশ, সরকারি নীতিনির্ধারকদের এখনি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অবস্থা পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনে তাঁদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতি ও তৎপর থাকতে হবে। তা না হলে বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
এগার, আতঙ্ক নয়, দৃঢ় মনোবল নিয়ে রোগ মোকাবেলা করুন।
আল্লাহ আমাদের সব রকম মারণঘাতী রোগ থেকে রক্ষা করুন।
















