সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এলাকায় বেশ সংখ্যক ঔষধকর্মী—বিশেষ করে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (MPO) এবং মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের—‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটি মনে করে, এ ধরনের ঘটনা শুধু ভিত্তিহীন নয় বরং দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশাজীবীদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফাউন্ডেশনের সম্মানিত আহ্বায়ক মনোজিৎ কুমার রায় বলেন, ঔষধকর্মীরা কোনোভাবেই “দালাল” নন। বরং তারা দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। দেশের অধিকাংশ ঔষধকর্মী ন্যূনতম অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং তারা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে জ্ঞানভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, ঔষধের সঠিক তথ্য সরবরাহ, চিকিৎসকদের সাথে বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান, ওষুধের বাজারজাতকরণে নৈতিক ভূমিকা এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এই পেশাজীবীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই অবদান দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনটি দাবি করেছে, দেশে কার্যরত সকল ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহকৃত প্রায় ৯৮% ঔষধ জনগণের কাছে পৌঁছাতে এই কর্মীরা পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে “জরুরি সেবক” হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবীদের “দালাল” আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক, অগ্রহণযোগ্য এবং অপমানজনক। এ ধরনের মনোভাব ভবিষ্যতে ঔষধ খাতের সুশৃঙ্খল কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফাউন্ডেশন দ্রুত গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের লজ্জাজনক ও অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড থেকে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানায়।
সংগঠনটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ঔষধকর্মীরা কোনো দালাল নয়—তারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার নীরব যোদ্ধা এবং মানবতার সেবায় নিয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী গোষ্ঠী।