বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের আলচনা সভা অনুষ্ঠিত।

69

নিজস্ব প্রতিবেদক | PharmaNewsBD.com
প্রকাশিতঃ  ১৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে “ ইফতার ও গেট টুগেদার ২০২৬ ঢাকার নিউ ইস্কাটনের রেড অর্কিড রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ফার্মাসিস্ট, ফার্মেসি পেশাজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার, সিনিয়র ফার্মাসিস্ট মো. বেলায়েত হোসেন। বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম আনোয়ার মজিদ তারেক, সহ-সভাপতি মো. জাকারিয়া ফারুকী, একে আজাদ, সোহেল বিন আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, অর্থ সম্পাদক আবুল ফজল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান হোসেন শুভ, প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (নির্ঝর), সহ-প্রচার সম্পাদক সাইমুম ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মো. এহসান আহমেদ জুয়েল, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আরিফ খান, ফয়সাল তারিক তন্ময়, মো. মোহাইমিনুল ইসলাম এবং মো. মেজবাহ উদ্দিন সাব্বির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান হোসেন শুভ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার বলেন, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের ছয় দফা দাবির একটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে। আমরা ফার্ম ডি (Pharm D) প্রোগ্রাম চালু করেছি এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি চালু হবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সকল ফার্মাসিস্ট যদি ঐক্যবদ্ধভাবে একযোগে কাজ করেন, তবে পর্যায়ক্রমে ফোরামের ছয় দফা দাবিই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে একটি সমন্বিত ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।সিনিয়র ফার্মাসিস্ট মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তান ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে ফার্মাসিস্টদের সেবা গ্রহণ করেছেন। তাই তিনি ভালোভাবেই জানেন ফার্মাসিস্টদের কাজ ও তাদের পেশাগত মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, অচিরেই সরকারি হাসপাতাল গুলোতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫,০০০ নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট রয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৮০,০০০-এরও বেশি। ফার্মাসিস্টদের অর্জন এই ২৫,০০০ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জন করতে হবে। তাই সকল ধরনের বিভাজন ভুলে আমাদের একসাথে কাজ করে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন আমরা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব। পাশাপাশি নবীন ফার্মাসিস্টদের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে যেতে পারব।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর সংগঠনের বিভিন্ন অর্জন, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন।
সহ-সভাপতি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বার সেক্রেটারি সোহেল বিন আজাদ অপু বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি আদায়ে মব সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেললেও বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম সবসময় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করে গেজেট প্রকাশ করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোজিৎ কুমার রায়, ম্যানেজার (মাইক্রোবায়োলজি), নাভানা ফার্মা এবং আহ্বায়ক, ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফোরাম, বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম আজ একটি ব্র্যান্ড ও আইকনে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে সংগঠনটি নীতি ও আদর্শ নিয়ে দেশের সকল ফার্মাসিস্টদের ঐক্যবদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি ফোরামের ৬ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে ভবিষ্যতে ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফোরাম এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার সম্পন্ন হয়।