নীরবে চলে গেলেন জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ প্রণয়ন-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক, বাংলাদেশের ফার্মেসি শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক আ ব ম ফারুক

89

জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ প্রণয়ন-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক,বাংলাদেশের ফার্মেসি শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন ও অধ্যাপক আ ব ম ফারুক আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি গত ১৩ আগস্ট নিউইয়র্ক সময় রাত ৮টা ০৭ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের মরদেহ রবিাবর (১৬ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম হোসেন খন্দকার ভবনের সামনে নেওয়া হয় সেখানে তার সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন সম্পূর্ণ করা হয়।

আ ব ম ফারুক ১৯৫২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, আত্মীয়স্বজন, অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

আ ব ম ফারুক ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে অধ্যাপক পদে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ও ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন ছিলেন। জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ প্রণয়ন-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়কও ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ছিলেন,  বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের প্রভোস্ট হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আ ব ম ফারুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন আ ব ম ফারুক।

জনস্বাস্থ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে আ ব ম ফারুকের গবেষণা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শিক্ষা, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য ও ফার্মেসি শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে ফার্মাসিস্ট, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিজীবন শেষে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও সাইন্স এন্ড টেকনোলজি অনুসাদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছারাও তিনি ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের মৃত্যুতে দেশের ফার্মাসিস্ট, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন না, বরং একজন অভিভাবক, মেন্টর ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষা, গবেষণা ও ফার্মেসি পেশার উন্নয়নে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।